ফ্রুট ‘ণ নাট

হৃদয় যেন নিজের সাথেই দ্বন্দ্বে বন্ধ।

গতকাল রাতে ভাবছিলাম কিনবো কিনা। তারপর কিনেই নিলাম।ক্যাডবেরি ফ্রুট ‘ণ নাট। ঠান্ডায় সারারাত থাকায় এখন মন আর ক্যাডবেরি দুটোই শক্ত হয়ে গেছে। ওটাকে পকেটে গুঁজে বেড়িয়ে পড়লাম।

খটখটে দুপুর বেলা অটো এ উঠেছি। উফ কি গরম। তার ওপর উত্তেজনা। ঘেমে চান। জল কম খাই বলে গিন্নি তো চিৎকারে শঙ্খচিল ; তাও এত ঘাম আসে কোথ্যেকে কে জানে। সে যাই হোক, সময় মতো পৌঁছতে পারলে হয়। অটো গুলো আবার ন্যাকামো মেরে সামনে দুজন নিতে চায়না। তাই অগত্যা পরের অটো এ উঠতে হল। তার ওপর আবার অটো ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত যাবেনা সে। অটোওয়ালা অটোর বাইরে কাঁধে একটা গামছা নিয়ে দাড়িয়েছিল। আমি বললাম ” ও ভাই, আর কতক্ষণ ? এবার চালাও, এই দুপুরে আর লোক আসবেনা। রাস্তায় যেতে যেতে লোকজন পেয়ে যাবে।” । অটোওয়ালাটা আমার কথায় পাত্তাই দিলনা। কমবয়সী ছেলে ; ঘাড়ে ওঁ লেখা ট্যাটু , চুলে চিতা বাঘের মতো রং করা , ক্যাটক্যাটে লাল রঙের ফুলের নক্সা করা জামার উপরের দুটো বোতাম একদম নতুন আছে, কারণ জীবনে কোনদিন ওটা ব্যবহার হয়নি, সবসময় খোলা , অটোর পেছনে আবার কি একটা “দেখবি আর লুচির মতো ফুলবি “-গোছের লিখে রেখেছে । বেশি ঘ্যাম হলে যা হয়। আমি মনে মনে বললাম “উফফ পারিনা, পিনিক দ্যাখো ছেলের! কে দেয় এদের? ” । মনের ভেতর থেকে উত্তর এলো : “ওরে বোকা, এদেরকেই দেয় ! এখন দ্যাখ , জ্বল আর লুচির মতো ফোল !” ।

কি মুশকিল , এখনো অটো ছাড়ছেনা । মনে হচ্ছিল অটোওয়ালাটার মাথায় এক বালতি আলকাতরা ঢেলেদি। বেড়িয়ে যাবে মস্তানি। আমার ঘাম হচ্ছিল অনেক আর গা জ্বলছিল ভীষণ। কিন্তু তাও একটু গলা নামিয়ে সবিনয়ে বললাম, “ভাইটি , চল এবার, দেরী হয়ে যাচ্ছে” । এবার মনে হল ছেলেটা আমার কথাটা একটু শুনল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল “আগের মাসে ভাড়া বাড়ানোর কথা ছিল , বাড়াতে দিলনা ; জিনিস পত্রের যা দাম , এবার তো লসে চলতে হবে কাকু ..” । আমি ওর কথাটা কেটে বললাম, ” তোর দরকার পড়ে আমি তোকে ১০ টাকা বেশি দেব, উচ্ছন্নে যাওয়ার জন্য , তুই তাড়াতাড়ি চল তো দেখি”। অটোওয়ালা টাকার কথা শুনে নিজের সিটে এসে বসল। তারপর ওর হঠাত কি একটা খটকা লাগল। ও পেছনে ফিরে বলল, “কিসের জন্য টাকা দেবেন বললেন?”। আমি ব্যস্ত হয়ে বললাম ” ওরে কিছু না রে, কিছু না। একটু মিষ্টি কিনে খাবি না হয় টাকা দিয়ে “।

আমার কথা শুনে ও অটোতে স্টার্ট দিল। আমার চোখের চশমাটা বারবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে আজকাল। কেন কে জানে। আজকে যেন একটু বেশিই ঘন ঘন ঝাপসা হচ্ছিল। চুশমাটা খুলে জামাতে একটু মুছলাম। মুছতে মুছতে বললাম “বুঝলি দুর্যোধন, এখন উচ্ছন্নে যাওয়াটাই হল ইস্টাইল “। অটোওয়ালা হঠাৎ ব্রেক কষল। আমি বললাম “কি হল দাঁড়ালি কেন ?” ও পেছন ফিরে বলল ” দেখুন কাকু আমার নাম পল্টু। ঐসব দুর্যোধন, ফুর্জধন কায়দা মারা নাম আমার পোষায় না “। আমি বললাম ” আচ্ছা বাবা পল্টু, চলো বাবা তুমি “।

অটো আবার চলতে লাগল। আমি চশমাটা চোখে দিয়ে বললাম, “আচ্ছা পল্টু, তুই দুর্যোধন কে চিনিস?” পল্টু জামার হাতাটা একটু ঠিক করতে করতে বলল “না কাকু, আপনি এত দুর্যোধন দুর্যোধন করছেন কেন বলুন তো ?” আমি পল্টুকে আশ্বাস দিয়ে বললাম, ” ওরে, তুই দুর্যোধন কে চিনিস না? দুর্যোধন, দুঃশাসন, এরা তো তোদের এই ইয়ং জেনারেশনের আইডল রে”। পল্টু বলল ” কেন কি করেছিল সে? ” আমি বললাম ” দুর্যোধন ছিল সেই যুগের ডন। তুই দেখনা কিছুদিনের মধ্যেই দুর্যোধনের হিরোইসম এর ওপর কেউ না কেউ মুভি বানিয়ে ফেলবে। সারুখের ডন যত না চলেছিল, দুর্যোধন তার থেকেও বেশি হিট হবে। তবে এই গল্পে আরেকটা খুব ইম্পরট্যান্ট চরিত্র আছে বুঝলি, নাম হল শকুনি। তবে সেসব গল্প বলতে সময় লাগবে। আমি একটা বই লিখবো ভাবছি শকুনির উপর, তোকে দেবো, পড়ে দেখিস। এখন বাবা তুই জলদি চল।” পল্টু বলল, ” এতই যদি পড়তে পারতাম তাহলে এই অটো চালাতাম না কাকু।” আমি বললাম ” ফালতু কথা বলিসনা, আমি দেখতেই পাচ্ছি তুই কত অটো চালাচ্ছিস। অটো চালাচ্ছিস কম এর রাস্তায় সুন্দরী মেয়ে দেখছিস বেশি”। পল্টু ফিক করে হাসলো। হাসতে হাসতেও রাস্তায় মেয়ে দেখছিল। আমিও দেখতে পেলাম ফুটপাতে হাঁটতে থাকা মেয়েটিকে। খুব একটা সুন্দরী নয়, তবে নিজেকে ভালো মেন্টেন করেছে। চোখে পড়বে।

কিন্তু কোথা থেকে যেন হঠাৎ এল বিপদ। পল্টুর তো চোখ ফুটপাতে, মন এক্সরে মেশিন খুঁজছে, আর অন্য জিনিসপত্র , ইন্দ্রীও কোথায় কে জানে। ও চালাচ্ছে অটো! কিন্তু অটোটার তো আর বুদ্ধি নেই, তাই সেও সোজা গিয়ে রাস্তার ধারে একটা রেলিংয়ে দুম করে মারলো ধাক্কা। সঙ্গে সঙ্গে একটা চাকা স্কিড করে অটো তখন পাল্টি খেতে শুরু করছে। আমি ঝাপসা চশমার মধ্যে দিয়ে দেখতে পেলাম বিপদটা আমার দিকে উর্ধশাসে ছুটে ছুটে আসছে। অটোটা প্রায় হাওয়ায় লাফ দিচ্ছে। আমার হঠাৎ অদ্ভুত অদ্ভুত চিন্তা মনে পড়তে শুরু করলো। সেই এক নিমেষেই।

অটো ২ ডিগ্রি কাত…
আচ্ছা আমার মাথার তলায় কি কোনো বালিশ আছে? কই নাতো। ওটা বোধহয় অন্য কোনো গল্পে পড়েছিলাম। গুলিয়ে গেল।

অটো আরও কিছুটা হেলতে আরম্ভ করেছে…
মাথার অন্য একটা প্রান্তে কার যেন গলা শুনতে পেলাম। আরে এটা তো আমার গিন্নির গলা। কি বলছে দেখিতো। ভালো করে শুনলাম। গিন্নি বলছিল “তুমি কিন্তু বাসে করে যেও, আজকাল অটোয়ালা গুলো খুব বাজে চালায়, প্রতিদিন দেখি একসিডেন্ট হচ্ছে। ” মনটা কেমন মুষড়ে গেল শুনে।

অটো এখন প্রায় ৮৫ ডিগ্রি বেঁকে ত্যারচা ভাবে হাওয়ায় অবস্থিত…
মনে পড়ল আমার ছেলের মুখটা। শুরুর দিকে পেন্সিলে আঁকা ওর মুখের একটা স্কেচ ভাসছিল চোখের সামনে। একবার ও আমায় এসে মুখ চুন করে বলেছিল, ” বাবা, আজকে ম্যাডাম আমার খাতায় একটা কমেন্ট লিখে দিয়েছে। আর ম্যাডাম তোমার নাম জিজ্ঞেস করছিল। ” আমার শুনে একটু খটকা লেগেছিল। আমি বলেছিলাম “দেখা তো দেখি কি কমেন্ট লিখেছে।” তারপর ওর খাতায় দেখেছিলাম স্টার দিয়ে লেখা ছিল, “পেরেন্ট টিচার মিটিং অন 21স্ট অগাস্ট। ফাদার হ্যাজ টু বি প্রেজেন্ট। ” ওটা স্টার না মাকড়সার জালের নক্সা বুঝিনি। তবে হাতেরলেখাটা চেনা লেগেছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম ” হ্যাঁ রে তোর ম্যাডাম এর নাম কি?” । ও বলেছিল ” ইন্দিরা মুখার্জী” ।

অটো এবার পুরোপুরি ৯১ডিগ্রি…
অঞ্জন দত্তের একটা গানের লাইন বাজছিল মনের কোনো একটা দিকে। “এখানটাতে প্রথম দেখা… আমার প্রথম প্রেমিকা…র। হাত ধরে হাঁটছে অন্য কেউ… । … হঠাৎ বড় হয়ে যাওয়া।” সেই ইন্দিরা মুখার্জী! অনেক আলো আধারী রেস্তোরাঁ পেরিয়ে আজকে আমার ছেলের ক্লাস টিচার!

কিশোর বয়সে তারান্টিনোর নন লিনিয়ার স্টোরি টেলিং দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। মনে মনে বলতাম ” আগের ঘটনা পরে, পরের ঘটনা আগে, এ আবার হয় নাকি। আঁতলামোর এক শেষ”। কিন্তু এখন বুঝি, প্রেম , ভালোবাসা, রুমাল, বিড়াল, গল্প, পাঠক, সব কিছুই নন লিনিয়ার। স্রেফ ‘ঋ’ আর ‘এ’ হল লিনিয়ার। কারণ তারাই কেবল বাংলা বর্ণমালার অবলুপ্ত প্রায় প্রাণী, ‘ লি’ অক্ষরটি র নিয়ার এ অবস্থিত। (কেউ মারবেন না :প)

অটো ৯২ ডিগ্রি…
মনের অন্য একটা দিকে আমি একটা ছোট দোতলা বাড়ি দেখতে পাচ্ছিলাম। আমি জানি ওটা ইন্দিরার বাড়ি। খুব চেনা বাড়িটা। কোথায় দরজা, কোথায় জানলা, কতগুলো ঘর সবই জানি। ওই বাড়িতে একটা খুব রহস্যময় ঘর আছে। সেই ঘরে একসময় অনেকদিন থেকেছিলাম। অনেক খেলা করেছি ছুটে বেড়িয়েছি। ওই ঘরে অনেক বাক্স এদিক ওদিক ছড়ানো থাকতো। প্রতিটা বাক্সেই কিছু না কিছু থাকতো। কোনটাতে জামা কাপড়, কোনটাতে গল্পের বই, কোনটাতে সাজগোজের জিনিস, আবার কোনটাতে বিড়াল। ইন্দিরা মাঝে মাঝে সেই ঘরে ঢুকতো, কোনো একটা বাক্স থেকে জিনিস পত্র নিয়ে ব্যবহার করে আবার বাক্সে জিনিস রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। ওই ঘরেই অন্য বড় একটা বাক্সে থাকতাম আমি। আমার সাথে এসেও ও মাঝে সাঝে কথা বলতো। যখন আমায় বেশি সময় দিত, পাশের বাক্সের বিড়ালটা ভুগত অনাদরের অসুখে। কেমন একটা অদ্ভুত স্বরে ডাকত আর গান গাইত, যার অর্থ আমার কল্পনায় ফুটে উঠত : যদি এক মুহূর্তের জন্যেও আমায় চাও, সেটাই ম্যাও।

প্রথম প্রথম সেই ঘরের ভেতরেই থাকতাম আমি, ঘরের বাইরে বেরোতাম না। একদিন কৌতুহল বাড়ল। উঁকি মেরে দেখলাম ঘরের বাইরে কি আছে। ইন্দিরা আমায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিল ” কিরে তুই বাইরে কেন?” আমি বলেছিলাম “আমার এই ঘরের ভেতর সারাক্ষন বসে থাকতে ভালো লাগেনা। আমি বাকি বাড়িটাও দেখতে চাই।” ইন্দিরা বলেছিল ” হ্যাঁ আমিও ভাবছিলাম তোকে দেখাবো সবটা। ঘুরবো তোকে নিয়ে। তুই তো আমার ভ্রূণ হবি, তুই ই তো আমার ভবিষ্যৎ। আর তুই যে ঘরে থাকিস, ওই ঘরটার নাম হলো “মন”। ”

সেদিন আমরা চিলেকোঠায় গেছিলাম। সূর্য ডোবার পর অন্ধকারে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবেছিল। কয়েকদিন পর দোতলার দুটো ঘর ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল আমায়। একতলায় আরেকটা ঘর ছিল। ওখানে অবশ্য যাওয়া মানা ছিল। ওটা বন্ধ থাকত।

আরো কিছুদিন কেটেছিল যত্নে। ২৫ বা ২৬ দিনের মাথায় একদিন ঝগড়া হল ভীষণ। তুলকালাম ঝগড়া। ঝগড়া শেষে আমি আমার ঘরের ভেতর ঢুকে পায়চারি করছিলাম। সেইদিন হঠাৎ দেখলাম ঘরের কোনের দিকের একটা অপরিস্কার বাক্স থেকে সরু ধোঁয়ার ফিতে সিলিং এর দিকে যেতে যেতে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে মনে ভেবেছিলাম ওটা কোনো আধপোড়া সিগারেটের টুকরো হবে। তার হাঁফানি মার্কা ধোঁয়া কি আর সিলিং এর উচ্চতা ছুঁতে পারবে?

কিন্তু একটু পরেই বুঝলাম যে ধোঁয়া বেড়ে চলেছে। এ যে আগুন! ধোঁয়া এবার দরজার ফাঁক দিয়ে অন্যান্য ঘর গুলোতে যাচ্ছিল। আমি হন্তদন্ত করে দরজা খুলে বেরোতেই দেখি ইন্দিরা দাঁড়িয়ে। মুখটা কালো। আমি জিজ্ঞেস করলাম ” কি হয়েছে তোর? শরীর ঠিক আছে? তুই জানিস ঘরে আগুন লেগেছে?”

ও মাথা নেড়ে বলেছিল, ” হ্যাঁ জানি। আমার চারধারে আগুন। আমার শরীরে ব্যাথা। আমার ভালো লাগছেনা। তুই চলে যা এখান থেকে। আমি তোকে সেই জন্যই ডাকতেই আসছিলাম। ” আমি বলেছিলাম ” আমি তোরই অংশ। আমায় খুলে বলবিনা কি হয়েছে?”

ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি ঢুকে গেছিলাম আমার ঘরের ভেতর। খুব অভিমান হয়েছিল। আমি ঢুকে গেছিলাম ঘরের ভেতর।ইচ্ছা করছিল চারধার ভেঙে তছনছ করে দি। কিন্তু কিছু করিনি। গুমরে ছিলাম সেদিন। রাত্রের দিকে ঘুম আসছিলনা। নিচের তলা থেকে যেন কেমন একটা গুড় গুড় শব্দ আসছিল মেঘ ডাকার মতো। আমি তাও বেরোইনি ঘর থেকে।

পরের দিন, ২৭ তম দিনে, রাত্রে আমার মাথায় বাই উঠলো। মনে পড়ল ইন্দিরা নিচের ঘরে যেতে বারণ করেছিল। একবার চুপি সাড়ে দেখে আসি কি আছে ওখানে।

সিঁড়ি বেয়ে পা টিপে টিপে নামলাম নীচে। দেখলাম ঘরের বাইরে লেখা প্রবেশ নিষেধ, আর ঘরের ছিটকিনি বাইরে থেকে বন্ধ করা। ঘরের ভিতর থেকে যেন আবার শুনতে পেলাম ওই মেঘ গর্জনের মতো আওয়াজটা। আওয়াজটা আরো বাড়ছিল আস্তে আস্তে। হঠাৎ দেখলাম দরজাটা কাঁপছে। আমার ভয় লাগছিলো। তাও ছিটকিনির ল্যাচটা খুলে দিলাম। এরপর নিমেষে ভেতর থেকে লাল রক্তের বন্যা এসে ভাসিয়ে দিলো চারধার। আমিও ভেসে গেলাম সেই স্রোতে। বীভৎস স্রোত। হাবুডুবু খেতে খেতে আমি পড়লাম গিয়ে বাথরুমের স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে।

আমার ধুলো পড়া গাঢ় নীল সত্ত্বাটা ধুয়ে যায় লালে। নীল কল্পনার রং। উত্তাপ আর প্রানের রং লাল।

অটো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। আমি ফিরে এসেছি সম্বিতের অন্য প্রান্তে…
চশমা আবার ঝাপসা। একি, সত্যিই তো! বাথরুমের মেঝেতে বসে আমি কি করছি?

বাইরে থেকে গিন্নি বাথরুমের দরজায় টক টক করে বললো “কিগো, তোমার আর কতক্ষন? ঘুমিয়ে পড়লে নাকি? একটা বালিশ নিয়ে ঢুকো পরেরবার থেকে।”

আমি চেঁচিয়ে বললাম ” হয়ে গেছে, বেরোচ্ছি, ২মিনিট” ।

“তুমি আজকে পেরেন্ট টিচার মিটিং আছে বলে বেরোবে বলছিলে যে। তুমি কিন্তু বাসে করে যেও, আজকাল অটোয়ালা গুলো খুব বাজে চালায়, প্রতিদিন দেখি একসিডেন্ট হচ্ছে। ”

অটো এখন ৩৬২ ডিগ্রি…
না, ভবিষ্যৎটা বদলাতে হবে। আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে গিন্নিকে বললাম “তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি গো”।

গিন্নি জিজ্ঞেস করলো ” মানে? হঠাৎ আমার জন্য কি আনলে? গড়িয়াহাটে সেদিন শাড়িটা কিনে দিতে বললাম দিলে না তো। আবার আজকে গিফ্ট এনে মন ভোলাতে এসেছ? ”

আমি বললাম ” তুমি চকোলেট ভালো বাসো বলে তোমার জন্য ক্যাডবেরি ফ্রুট ‘ণ নাট এনেছি দেখো..” , বলে আমি ফ্রিজ থেকে বার করে ক্যাডবেরিটা দিলাম গিন্নিকে। গিন্নি পেয়ে একগাল হাসলো। আমি জড়িয়ে ধরলাম ওকে।

… কিন্তু অটোটা শেষ পর্যন্ত পাল্টি খেতে খেতে কল্পনার কোন গভীরে গিয়ে মিশেছিল তা আমি জানিনা। তবে গড়িয়াহাটে যখন গিন্নিকে শাড়িটা কিনতে নিয়ে গেছিলাম, লাকি ড্র-এ একটা লাল অটোর ছবিওয়ালা দেওয়াল ঘড়ি গিফ্ট পেয়েছিলাম।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s