ভালোবাসা – মেঘ আর আগুন

যেদিন বৃষ্টি পড়বে প্রচুর। হাওয়া দেবে অনেক। রাস্তায় হাঁটু জল জমবে। ইস্কুল অফিস বৃষ্টিতে ছুটি থাকবে। সেরকম একদিন আমরা দেরি করে ঘুম থেকে উঠবো।

আমাদের বাড়ির পাশের পুকুরটা জলে থইথই। পুকুরের জল, ড্রেনের জল, রাস্তার জল, সব মিশে যাবে একসাথে। পুকুরের কিছু কৌতূহলী মাছ বাইরের পৃথিবীটাকে দেখবে বলে রাস্তার জলে ঘোরাঘুরি করবে। পাশের বাড়ির শ্যামল কাকুর মতো আমিও প্যান্টের তলাটা হাঁটু অব্দি গুটিয়ে জলে নামবো ছাতা দিয়ে মাছ ধরতে। পোনা মাছ। টাটকা, জ্যান্ত।

ঘুম চোখে হাই তুলতে তুলতে তেল মশলা দিয়ে মাছ রান্না করবে তুমি। দুপুরে আমরা খিচুড়ি-বেগুনি-মাছভাজা-পাঁপড় খাবো। শেষে টমেটোর চাটনি। তারপর মৌরি চিবোতে চিবোতে আর ভেজা শালিকের ডাক শুনতে শুনতে গুটিসুটি হয়ে চাদরের ভেতর ঘুমিয়ে পড়বো আমরা।

ঘুম ভাঙবে বিকেলে। বৃষ্টি থেমে যাবে তখন। কিন্তু মেঘ থেকে যাবে কিছুটা। হালকা রোদ্দুর আর ভেজা মাটির গন্ধ। আগের দিন ছাদে মেলা জামা কাপড় গুলো সব ভিজে। বৃষ্টির আগে তুলে নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেগুলো তুলতে ছাদে যাবো আমরা। আমি একটা সিঁড়ি টপকে টপকে তাড়াতাড়ি উঠে পড়বো ছাদে। তারপর ওপর থেকে বলবো, “ছাদে আসার সময় ঘুড়ি আর লাটাইটা এনোতো, আজকে ভালো হাওয়া আছে”।…

তুমি উড়ান দিও ঘুড়িতে, আমি প্রথমটা উড়িয়ে দেব।
তারপর ঘুড়ি যখন মাঝ আকাশে পৌঁছাবে, তখন তোমায় দিয়ে দেব সুতো। আমি ধরবো লাটাই। উড়িও তুমি প্রাণ খুলে। আর অন্য কোনো ঘুড়ি এলে প্যাঁচ খেলে কেটে দিও। আমরা একসাথে “ভোকাট্টা” বলে দুও দেব।

এরপর আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামবে। পাশের বাড়িতে সন্ধ্যা দেয়ার শাঁখের আওয়াজ শোনা যাবে। আমরা নীচে নেমে এসে ঘরে একটা প্রদীপ জ্বালাবো। প্রদীপের সামনে বসে থাকব আমরা দুজন। কাঁপা কাঁপা আলোয় অনেক্ষন তোমাকে দেখবো। তুমিও দেখবে আমায়। আস্তে আস্তে আরো কাছ থেকে দেখবো তোমায়। তোমার হাতে হাত ছোঁয়াব। তুমি অনুভব করবে একটা হালকা উত্তাপ। কাছে আসতে আসতে উত্তাপ আরো গাঢ় হবে। তারপর আস্তে আস্তে একটা সময়ে উত্তাপে গলে যাবো আমরা। আরেকটু পরে পুড়ে যাবো।

ভালোবাসায় মানুষ পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। আমরাও প্রতিদিন ছাই হবো, একসাথে।

ভালোবাসা – যেন ফুল

তুমি : ভালোবাসা কি?

আমি : ভালোবাসা একটা ফুল।

তুমি : সে কি! ফুল তো ফোটে, আবার একদিন ঝরেও যায়।

আমি : না; ভালোবাসার ফুল ঝরেনা। ফুল থেকে ফল হয়, তা থেকে নতুন একটা বৃক্ষ সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা জন্ম দেয়। ভালোবাসা এগিয়ে নিয়ে যায়। ভালোবাসা নতুন একটা ফুল তৈরি করে। ভালোবাসা ঝরেনা, আমাদের মধ্যে দূরত্ব গুলো ঝরায়। কখনো ভালোবাসা ঝড় তোলে আবেগের আকাশে। আবার কখনো ঝর্ণার মতো ধুয়ে দেয় ক্লান্তি। ভালোবাসা যেন ঝুড়িভাজার মতো নোনতা। ঝিরঝিরে বৃষ্টির দিনে মেঘেদের কোণটা

তুমি : কিন্তু কখনো যেন ভালোবাসা নিঃশব্দ বাঁশ ঝাড়ের মতো থমথমে।

আমি : কখনো আবার থামের মতো দৃঢ়।

তুমি : ভালোবাসা কি না থেমে থাকার রসদ?

… … … …

ভালোবাসা কে চিনতে চিনতে দিন বাড়লো, উঠলো রোদ। আবার সন্ধ্যা নামলো, বাজলো শাঁখ। ভালোবাসা যেন ভোর রাতে জেগে ওঠা কাকের ডাক।

ভালোবাসা তোমার আমার রক্তে থাক। না ই বা তাকে খুঁজলে, না ই বা বাড়ালে রক্তচাপ।